১ উত্তরাধিকারী নির্বাচন করুন (হিন্দু)
২ সম্পদের বিবরণ
হিন্দু উত্তরাধিকার আইন বাংলাদেশ অঞ্চলে প্রধানত দায়ভাগ (Dayabhaga) মতবাদ অনুযায়ী পরিচালিত হয়। জীমূতবাহন রচিত এই দায়ভাগ মতবাদের মূল ভিত্তি হলো পিণ্ডদান বা আধ্যাত্মিক উপকারের সক্ষমতা। এছাড়া, মহিলাদের সম্পত্তির অধিকার সুরক্ষার জন্য ১৯৩৭ সালে হিন্দু উইমেন্স রাইটস টু প্রপার্টি অ্যাক্ট (Hindu Women's Rights to Property Act, 1937) প্রণীত হয়, যা বাংলাদেশে অদ্যাবধি প্রযোজ্য।
দায়ভাগ মতবাদের ভিত্তি (Principle of Spiritual Benefit)
দায়ভাগ অনুযায়ী মৃত ব্যক্তির সম্পত্তির উত্তরাধিকার সেই ব্যক্তিরা পান, যারা মৃত ব্যক্তিকে পারলৌকিক বা আধ্যাত্মিক উপকার (পিণ্ডদান) করার যোগ্যতা রাখেন। উত্তরাধিকারীদের তিনটি প্রধান শ্রেণীতে ভাগ করা হয়:
হিন্দু নারী সম্পত্তিতে অধিকার আইন, ১৯৩৭
এই আইনটি হিন্দু নারীদের (বিশেষত বিধবা স্ত্রীর) উত্তরাধিকারের ক্ষেত্রে একটি বড় পরিবর্তন আনে। এই আইন অনুযায়ী, মৃত ব্যক্তির পুত্র বর্তমান থাকলেও বিধবা স্ত্রী তাঁর পুত্রদের সমান অংশ লাভ করেন। তবে এটি জীবনস্বত্ব (Limited Interest বা Life Estate) হিসেবে গণ্য হয়। অর্থাৎ তিনি তাঁর জীবিতকাল পর্যন্ত সম্পত্তি ভোগদখল করতে পারবেন, কিন্তু বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া এটি বিক্রি বা হস্তান্তর করতে পারবেন না। তাঁর মৃত্যুর পর এই সম্পত্তি আবার মূল মালিকের উত্তরাধিকারীদের (Reversioners) কাছে ফেরত যাবে।
দায়ভাগ আইন এবং ১৯৩৭ সালের সংশোধনী অনুযায়ী উত্তরাধিকারীদের একটি নির্দিষ্ট অগ্রাধিকার ক্রম (Order of Succession) রয়েছে। উপরের সারির কেউ জীবিত থাকলে নিচের সারির উত্তরাধিকারীরা সাধারণত বঞ্চিত হন। নিচে প্রধান উত্তরাধিকারীদের তালিকা দেওয়া হলো:
প্রাথমিক উত্তরাধিকারী (Class I Heirs)
| উত্তরাধিকারী | আইনি অবস্থান ও শর্তসমূহ |
|---|---|
| ১. পুত্র (Son) | সর্বপ্রথম উত্তরাধিকারী। একাধিক পুত্র থাকলে তারা সমহারে সম্পত্তি বন্টন করে নেন। |
| ২. পৌত্র (Grandson) | যদি কোনো পুত্র পিতার আগে মারা যান, তবে সেই মৃত পুত্রের পুত্র (পৌত্র) তার পিতার স্থলাভিষিক্ত হয়ে সম্পত্তি পান (প্রতিনিধিত্ব নীতি)। |
| ৩. প্রপৌত্র (Great-grandson) | পৌত্র মারা গেলে প্রপৌত্র প্রতিনিধিত্ব নীতি অনুযায়ী অংশ পান। |
| ৪. বিধবা স্ত্রী (Widow) | ১৯৩৭ সালের আইন অনুযায়ী স্ত্রী পুত্রদের সাথে সমহারে সম্পত্তি লাভ করেন (জীবনস্বত্ব)। পুত্র না থাকলেও তিনি সম্পূর্ণ সম্পত্তি জীবনস্বত্ব হিসেবে ভোগ করেন। একাধিক স্ত্রী থাকলে তারা একত্রে এক পুত্রের সমান বা সম্পূর্ণ সম্পত্তি (পুত্র না থাকলে) লাভ করেন। |
পুত্র, পৌত্র ও স্ত্রীর অবর্তমানে অগ্রাধিকার ক্রম
| ক্রম | উত্তরাধিকারী ও শর্তসমূহ |
|---|---|
| ১ম অগ্রাধিকার | অবিবাহিতা কন্যা: পুত্র বা স্ত্রী না থাকলে অবিবাহিতা কন্যারা সম্পূর্ণ সম্পত্তি পান। |
| ২য় অগ্রাধিকার | সপুত্রা বা পুত্রসম্ভাবিতা কন্যা: অবিবাহিতা কন্যা না থাকলে বিবাহিতা কন্যা (যাঁর পুত্র আছে বা হওয়ার সম্ভাবনা আছে) সম্পত্তি পান। (উল্লেখ্য: বন্ধ্যা বা পুত্রহীনা বিধবা কন্যা দায়ভাগ আইনে উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চিত হন)। |
| ৩য় অগ্রাধিকার | পিতা: কোনো কন্যা যোগ্য না থাকলে পিতা সম্পূর্ণ সম্পত্তি লাভ করেন। |
| ৪র্থ অগ্রাধিকার | মাতা: পিতার অবর্তমানে মাতা সম্পত্তি পান (জীবনস্বত্ব হিসেবে)। |
| ৫ম অগ্রাধিকার | সহোদর ভাই: মাতার অবর্তমানে আপন ভাই সম্পত্তি পান। |
| ৬ষ্ঠ অগ্রাধিকার | সহোদর ভাইয়ের পুত্র: আপন ভাইয়ের অবর্তমানে তার পুত্ররা সম্পত্তি পান। |
| ৭ম অগ্রাধিকার | সহোদর বোন / বোনের পুত্র: এরা ক্রমানুসারে অংশ পান। |
বি.দ্র. হিন্দু দায়ভাগ আইনে ইসলামি আইনের মতো নির্দিষ্ট ভগ্নাংশ (যেমন ১/৮, ১/৬) নেই। যিনি অগ্রাধিকার পান, তিনি বা তাঁরা একত্রে সম্পূর্ণ সম্পত্তি লাভ করেন এবং সমহারে ভাগ করে নেন। শুধুমাত্র ১৯৩৭ সালের আইনে স্ত্রী পুত্রের সমপরিমাণ অংশ পান।
উত্তরাধিকার আইন আরও সহজভাবে বোঝার জন্য নিচে কিছু বাস্তবিক উদাহরণ এবং তাদের সমাধান দেওয়া হলো: